সর্বশেষ আপডেট : ৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখা শিক্ষা অফিস : স্পিডমানিতে হচ্ছে বদলি বাণিজ্য

9জালাল আহমদ ::
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির অভিযোগ ওঠেছে। কর্মকর্তাদের পছন্দের শিক্ষকদের বদলি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলানায় শিক্ষক সংখ্যা কম হলেও এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক না দিয়ে শিক্ষকদের পছন্দের স্কুলে স্পিডমানি নিয়ে বদলি করারও কাজ নিয়ে থাকেন এখানকার কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে উপজেলার সৎপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগদান করেন অসিত দাস। যোগদানের প্রায় ৩ মাসের মাথায় উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ সৎপুর সপ্রাবি থেকে শিক্ষক অসিত দাসকে মৌখিক আদেশে বদলি করানো হয় খুটাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষক বদলির নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই অসিত দাস খুটাউরা সপ্রাবিতে বদলি করা হয়। তিনি সেখানে যোগদান করেন গত ২ এপ্রিল।

একইভাবে খুটাউরা সপ্রাবি থেকে সহ-শিক্ষক রানা কান্ত দাসকে মৌখিক আদেশে বদলি করা হয় সৎপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মৌখিক আদেশের প্রেক্ষিতে রানা কান্ত দাস যোগদান করেন সৎপুর সপ্রাবিতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত অর্ধশতাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করেন। এ সময় সৎপুর সপ্রাবি’র শিক্ষক অসিত দাস যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অসুবিধার কারণ দেখিয়ে বদলির আবেদন করেন। বদলির আবেদনটি শিক্ষক বদলির নির্দেশিকা মোতাবেক না হওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ফেরত আসে। পরে শিক্ষক অসিত দাসকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা শিক্ষা অফিস মৌখিক আদেশে বদলি করেন খুটাউরা সপ্রাবিতে। আর খুটাউরা সপ্রাবি থেকে সহ-শিক্ষক রানা কান্ত দাসকে বদলি করা হয় সৎপুর বালিকা সপ্রাবিতে। গত এপ্রিল মাস থেকে অসিত দাস খুটাউরা সপ্রাবি ও রানা কান্ত দাস সৎপুর বালিকা সপ্রাবিতে কর্মরত রয়েছেন।
খুটাউরা সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা

স্যার আমাকে মোবাইল ফোনে বলেছেন-শিক্ষক অসিত দাস আমার বিদ্যালয়ে যোগদান করবে। কিন্তু অসিতকে আমার প্রতিষ্ঠানে যে বদলি করা হয়েছে, সে রকম কোনো কাগজ আমি পাইনি।

সৎপুর বালিকা সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষিকা গৌরি রাণী চন্দ জানান, অসিত দাসের বদলি ও রানা কান্ত দাসের যোগদানের কোনো কাগজ আমি পাইনি।

বদলির বিষয়ে জানতে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অরবিন্দ কর্মকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আপনার কোনো প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারবো না।

বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা এ রকম বদলির কোনো নির্দেশ দিইনি। ঘটনাটি আমি শুনেছি। বিষয়টি বড়লেখার স্থানীয় একজন প্রভাবশালী শিক্ষানুরাগী করেছেন এবং তিনি এ বিষয়ে আমার কাছে ফোন করে বাহ্ বাহ্ নিতে চাইছেন। তিনি নাকি এটা ভালো কাজ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: